মতপ্রার্থক্য ভুলে গিয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাপিয়ে পড়তে হবে : আমীরে মজলিস প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান বলেছেন,দুর্নীতি আর সন্ত্রাসে চেয়ে গেছে সারা দেশ। মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নেই। প্রতিনিয়ত হত্যা,খুন গুম বেড়েই চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগনের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তির স্বার্থকে গুরুত্ত দিচ্ছে। আইনের নামে অনেকের উপর করা হচ্ছে জুলুম আর অত্যাচার। নাস্তিক মুরতাদরা মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের নামে ইসলামের বিরুদ্ধে যা মনে চাচ্ছে তাই লিখে বা বলে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কিছু মিডিয়াও তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহিত করে লেখা ছাপিয়ে যাচ্ছে। মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চক্রান্তে বিভোর তারা। মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের নামে ইসলামের তাহজিব,তামাদ্দুন ও শরীয়ত বিরোধী নাস্তিক মুরতাদদের লেখা প্রকাশ বন্ধ করুন। অন্যথায় নাস্তিকদের দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে দেশের ঈমানদার তাওহীদি জনতা মাঠে নামবে। কোনো নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে অশুভনীয় মন্তব্য করলে তাকে পোহাতে হয় অনেক কিছ’। অথচ যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং যার কারণে আমরা হয়েছি সম্মানিত। আল্লাহ ও রাসূল সা. এর বিরুদ্ধে কুটক্তি করলে তার ব্যাপারে কঠোর প্রদক্ষেপ না নিয়ে মানুষকে দেখানোর জন্য গ্রেফতার করে তাকে জামাই আদরে রাখা হয়। সরকারকে হুশিয়ার করে দিতে চাই আল্লাহ,রাসূল সা. ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান জাতিয় সংসদে পাশ করুন। অন্যথায় জনগণ সরকারকে নাস্তিকদের পক্ষে ভেবে নিলে জনতার রোষানাল থেকে বাঁচা যাবে না।
তিনি ২০১৫ সালের হজযাত্রীদের সৃষ্ট সংকট সমাধান ও ওমরার ভিসা চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জনান। প্রিন্সিপাল হাবীব আরো বলেন,আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন তার খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে। প্রতিনিধির দায়িত্ব হল তার বিধান মতে সকল কিছু পরিচালনা করা। মুসলমানদের শাসন ব্যবস্থার নাম হল খেলাফত ব্যবস্থা। এখেলাফতই মানুষের সকল অধিকার নিশ্চিত করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতা,সমাজতন্ত্র,জাতীয়তাবাদ ও পুঁজিবাদের রাহুগ্রাস থেকে বাঁচতে হলে আলেম ওলামা ও দ্বীনদার তাওহীদি জনতাকে সকল মতপ্রার্থক্য ভুলে গিয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। কায়েম করতে হবে আবু বকর,ওমর,উসমান ও আলী রা. এর মত সাহাবায়ে কেরামের শাসন তথা খেলাফত ব্যবস্থা। তাহলেই মানুষ ফিরে পাবে তাদের সকল অধিকার।
গতকাল ০৯ মে বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ মজলিস মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোত্ত কথাগুলো বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা ইসমাঈল নুরপুরী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী,মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, যুগ্নমহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান,মাওলানা কোরবান আলী, মাওলানা আব্দুল আজিজ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. জি এম মেহেরুল্লাহ, প্রচার প্রকাশনা ও অফিস সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুল হক, নির্বাহী সদস্য মাওলানা হোসাইন আহমদ, মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, মুফতী হাসান মুরাদাবাদী, হাফেজ শহীদুর রহমান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা এনামুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মূসা।