১১
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরান পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যৌথসভায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
সভায় মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাবা-মায়ের সুরক্ষার কথা বলে এমন একটি বিল সংসদে পাস করা হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের উত্তরাধিকারব্যবস্থা, ফরায়েজ এবং বিশেষ করে নারীদের প্রাপ্য অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। আমরা এই বিল মেনে নেব না। অবিলম্বে এটি বাতিল করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন বাবা-মা আগেও চাইলে সন্তানকে হেবা বা বৈধ উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারতেন। বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার জন্য দেশে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনও রয়েছে। তাহলে নতুন করে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগকে কেন আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে—সরকারকে তার জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, মুসলমানের উত্তরাধিকার কোনো সামাজিক রীতি বা পারিবারিক সমঝোতার বিষয় নয়; এটি আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত বিধান। জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রবণতা এমন পর্যায়ে গেলে যে মৃত্যুর পর ফরায়েজ বণ্টনের জন্য সম্পত্তিই অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে আইনগতভাবে ফরায়েজ বহাল থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যে সমাজে মেয়েরা এমনিতেই নানা কৌশলে ফরায়েজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, সেখানে জীবদ্দশায় সম্পত্তি একজন সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে মেয়েদের। বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, কিন্তু মেয়েদের আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ন করে নয়।
তিনি আরও বলেন, শরিয়াহর বিধানকে রাষ্ট্রীয় আইনের ঐচ্ছিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। ইসলাম কোনো ‘অপশন’ নয় এবং আল্লাহর বিধান কোনো ‘মেনু’ নয় যে, রাষ্ট্রীয় আইনের কাঠামোর মধ্যে মানুষ ইচ্ছামতো তা গ্রহণ বা বর্জন করবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংসদে পাস হওয়া বিলটি ইসলামি আইন, ফরায়েজ ও সম্পত্তি আইনের বিশেষজ্ঞ আলেম-উলামা ও আইনজ্ঞদের মাধ্যমে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশোধন করতে হবে। আর যদি এতে শরিয়াহ ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ বিলটি বাতিল করতে হবে।
তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ধর্মীয় অধিকার ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিলে স্বাক্ষর করবেন না। ইসলামবিরোধী কোনো বিল রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পেলে তা দেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।
তিনি আগামী শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলে আলেম-উলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সর্বস্তরের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন ও মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুর মুহাম্মাদ আজীজ, সহকারী বায়তুলমাল সম্পাদক ক্বারী হোসাইন আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী, মাওলানা আনোয়ার রাজী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মাওলানা এহসানুল হক প্রমুখ।
বার্তা প্রেরক
(হাসান জুনাইদ)
প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস