৮
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, গতকাল (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত হামলা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষ একটি সহনশীল, গণতান্ত্রিক ও ভিন্নমত-সহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাবে হামলা, ভাঙচুর ও শক্তিপ্রদর্শনের ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব হামলা দিয়ে নয়; যুক্তি, তথ্য ও রাজনৈতিক শালীনতার মাধ্যমেই দিতে হয়। আজ যদি একজন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যও সহ্য করা না হয়, তাহলে আগামী দিনে সরকারের অন্যায়, দুর্নীতি ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণ সোচ্চার হলে তাদের বিরুদ্ধেও কি দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেওয়া হবে? এ ধরনের প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অশনিসংকেত।
মহাসচিব বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি ও তার সহযোগী ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরাই এ হামলা চালিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামলাকারীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে এ ঘটনাকে গর্বের সঙ্গে প্রচার করছে এবং দলীয় নেতৃত্বের কাছে নিজেদের তথাকথিত ‘বীরত্ব’ প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। অপরাধ সংঘটনের পর এমন প্রকাশ্য আত্মপ্রচার রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করারই নামান্তর।
তিনি বলেন, সরকার চাইলে ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারে। কিন্তু তা না করলে জনগণের কাছে স্পষ্ট বার্তা যাবে যে, দলীয় পরিচয়ই অপরাধীদের রক্ষাকবচ এবং সরকার রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থানে নেই।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, পলাতক শেখ হাসিনা নিজের এবং তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে এমন এক ব্যক্তিপূজার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে সমালোচনা সহ্য করার ন্যূনতম মানসিকতাও ছিল না। ভিন্নমত দমন, হামলা ও নিপীড়নের সেই রাজনীতির পরিণতি দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। ইতিহাসের সেই নির্মম পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে জনাব তারেক রহমানের উচিত ভিন্নমত দমনের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সহনশীলতার চর্চা করা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সমালোচনা দমনের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্যই কল্যাণকর হয় না।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শিক্ষা হলো—কোনো রাজনৈতিক নেতা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনাব তারেক রহমানসহ যে কোনো রাজনৈতিক নেতার সমালোচনার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে, হামলা চালিয়ে নয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো নতুন ব্যক্তি-পূজা কিংবা নতুন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত হয়নি।
তিনি অবিলম্বে ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং দেশের সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক
(হাসান জুনাইদ)
প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস