সদস্য হোন
সদস্য হোন

জনগণের রায় নিয়ে টালবাহানা করলে পরিণতি ভালো হবে না

মোহাম্মদপুরে ইফতার মাহফিলে আল্লামা মামুনুল হক

by Saifullah
ঢাকা, ৪ মার্চ (বুধবার): বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোহাম্মদপুর থানা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোহাম্মদপুরস্থ বায়তুল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোহাম্মদপুর থানা সভাপতি মাওলানা নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আমীরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক।
ইফতার পূর্ব বক্তব্যে তিনি বলেন, সারা দুনিয়ার মুসলিম উম্মাহর সদস্যরা আমাদের মত এত সুন্দর পরিবেশে ইফতার করতে পারছেন না। এই রমজানুল মোবারকের সময়ে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও ইসরাইলের সন্ত্রাসী বর্বর নৃশংস হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিহত হয়েছেন এবং সেদেশের হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নাই। আমরা মনে করি, আমেরিকা ও ইসরাইল দুনিয়ার শান্তির জন্য সবচে বড় অন্তরায় ও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুনিয়ার সাতশ কোটি মানুষের শান্তির জন্য ইসরাইলের পতন ও ধ্বংস হ‌ওয়া জরুরি ‌। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ যদি শান্তিতে থাকতে চায় তাহলে আমেরিকার আধিপত্যের পতন হ‌ওয়া জরুরি।
আমেরিকা-ইসরাইলের হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানে নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার যে ধরণের নিন্দাবাদ জানানোর আশা করেছিলাম, সেভাবে আমাদের রাষ্ট্র ও সরকার নিন্দা জানাতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য দুঃখের বিষয়। আমাদের সরকারগুলো পশ্চিমাদের কাছে নিজেদের এতটাই অসহায় মনে করে যে, তারা তাদের ঘৃন্য অপতৎপরতা নৃশংসতা হত্যাযজ্ঞের নিন্দাটুকু জানাতে‌ও ভয় পায়।
গণভোটের ফলাফল বানচাল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, লাই যে কোনো মূল্যে আগামীর বাংলাদেশে জুলাই গণ‌অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা যেন বাস্তবায়ন হয়, সেজন্য বিশেষ করে এদেশের তরুণ প্রজন্ম সজাগ সচেতন ও সোচ্চার রয়েছে। আমি দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বর্তমান সরকারকে বলতে চাই, এদেশে দীর্ঘ অনেক বছর পর শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন হয়েছে। মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছে। ফলাফল ঘোষণায় যাই হোক ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে, এটা নিয়ে মানুষের মধ্যে একরকম স্বস্তি রয়েছে। ভোট দুটি হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের সাথে গণভোট হয়েছে। আমরা বলেছিলাম গণভোট আগে দিতে। কিন্তু নির্বাচনের দিনেই দেওয়া হয়েছে। তারপরও গণভোটে দুই তৃতীয়াংশের বেশি ভোট পড়েছে। ধানের শীষে কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ মানুষ ভোট দেয় নাই। কেউ যদি দুই তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে টালবাহানা করতে চায়, তাহলে পরিণতি ভালো হ‌ওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। জনগণের রায়কে হাইকোর্ট দেখাবেন এমন চিন্তা যদি কেউ করেন, তাহলে এই বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখানোর দিক কিন্তু শেষ। বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখাতে যাইয়েন না; নাহলে বাঙালি কিন্তু রাজপথ দেখিয়ে ছাড়বে।
তিন আরো‌ বলেন, আমরা আশা করব, নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছিলেন। যদিও তার দলের লোকজন না ভোট দিয়েছেন অনেকে। তিনি জনগনকে হ্যাঁ ভোট দিতে বলে জনগণের সাথে হ্যাঁ ভোটের কার্যকারিতা বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার করেছেন। এখন যদি তিনি পাশ করে মনে করেন , এখন আর জনগণের প্রয়োজন হবে না, তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। পাশ করার আগে যেমন জনগণের প্রয়োজন ছিল, পাশ করার পর আগামী পাঁচ বছর শান্তিতে টিকে থাকার জন্য আরো বেশি প্রয়োজন হবে। রোজা রমজানের দিন রোজা রেখে যদি আপনারা জনগণের সাথে বেইমানি করেন, তাহলে আপনাদের পরিণাম খুব খারাপ হবে।
বার্তা প্রেরক
আশরাফুল ইসলাম সাদ
প্রেস সচিব, আমীরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক

এ জাতীয় আরো সংবাদ