বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আজ ১৯ এপ্রিল রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করবে। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সরকার জনগণের বাস্তব জীবনযাত্রার সংকট ও দুর্ভোগের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল নীতিনির্ধারণ এবং বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই সারা দেশে গত এক সপ্তাহ ধরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে এই সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কার ও মোটরসাইকেল রাইডারসহ শ্রমজীবী মানুষেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকার একদিকে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করলেও, বাস্তবে পাম্পে তেলের অপ্রতুলতা জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে যে, এটি কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারসাজি। এই অবস্থায় মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সেই সিন্ডিকেটকেই আরও উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অস্থিরতাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোনো সুস্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখনো জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সংকটের দায় জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।
মহাসচিব উল্লেখ করেন, জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আয় অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যয়ের চাপ বহুগুণে বেড়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
তিনি বলেন, কৃষিখাতে সেচ, সার পরিবহন ও অন্যান্য উপকরণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে শিল্পখাতে ব্যয় বৃদ্ধি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে এবং কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবতাবিবর্জিত ও গণবিরোধী। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণে আন্তরিক হয়, তাহলে অবিলম্বে জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
বার্তা প্রেরক
হাসান জুনাইদ
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস