বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা আজ শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৪টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হাসান জুনাইদ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও মাওলানা রুহুল আমিন খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন আসনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় জনগণ আশা করেছিল, নতুন সরকার দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। কিন্তু নির্বাচনের পরিবর্তে সরকার বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে পরিচালিত হওয়ার কথা। সেখানে দলীয় প্রশাসক বসানো জনমতের পরিপন্থী এবং এটি অতীতের একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।
সভা থেকে অবিলম্বে সকল দলীয় প্রশাসক নিয়োগ বাতিল করে পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অনিয়মের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হলে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, স্থানীয় উন্নয়ন গণমুখী হবে এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অপতৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হলে তা দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও গভীরভাবে ক্ষুণ্ন করবে।
বার্তা প্রেরক:
হাসান জুনাইদ
প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস