৯
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আজ বুধবার (১৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা-সংক্রান্ত আন্দোলন, বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, টানা ভারী বর্ষণ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা এবং রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের একাংশে পরীক্ষা স্থগিত রেখে অন্যত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এরই প্রেক্ষাপটে তারা কয়েকদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে এবং আজও ছয় দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি প্রত্যাহার করে শিক্ষা-সংক্রান্ত বাস্তবসম্মত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ, দুই পরীক্ষার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণনা, প্রশ্নপত্রের ভুলের যথাযথ সমাধান, মূল্যায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ এবং পরীক্ষার পরিবেশ শিক্ষার্থীবান্ধব করার মতো দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সরকার এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আমরা আশা করি।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীর “ফার্মের মুরগি” মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ও অবমাননাকর ভাষা অতীতের ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি এমন তাচ্ছিল্যপূর্ণ সম্বোধন ও অবমাননাকর ভাষা এই প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। তাই জনগণ যে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই একই ধরনের ভাষা বর্তমানেও ব্যবহার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে তরুণ প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের ভাষা হওয়া উচিত সম্মান, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার।
তিনি আরও বলেন, গতকাল আন্দোলন চলাকালে কিছু কিছু স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে অনিবার্য কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে শিক্ষার্থীদের বাকি যৌক্তিক দাবিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে তারা মানসিক চাপমুক্ত হয়ে পরীক্ষার হলে ফিরে যেতে পারে।
বার্তা প্রেরক
হাসান জুনাইদ
প্রচার সম্পাদক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস