৫
শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা–রংপুর লংমার্চের রংপুরের সমাপনী মহাসমাবেশে তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই জনগণের গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রংপুরে দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে অঙ্গীকার করেছিলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করে শুধু সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এটি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
আল্লামা ম|মুনুল হক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেই সংসদে বলা হয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের জন্যই তারা গণভোট ও জুলাই সনদ মেনে নিয়েছিল। এর মাধ্যমে তাদের অবস্থানের অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়েছে। জনগণের ভোটের রায় নিয়ে কোনো ধরনের ছলচাতুরি ১১ দল মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এককভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ কমবে, প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ হবে এবং দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হবে। দেশের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও অন্যান্য সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্যও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জরুরি।
আমীরে মজলিস ঘোষণা করেন, “৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় কার্যকর করেই আমাদের আন্দোলন ক্ষান্ত হবে ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, আট দফা দাবি বাস্তবায়নে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত লংমার্চ করা হয়েছে। সরকার দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আট দফার পরিবর্তে এক দফার দাবিতে ঢাকামুখী লংমার্চের কর্মসূচি দিতে ১১ দল প্রস্তুত রয়েছে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংগ্রামী মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জনগণের নিরাপত্তা বিধান করতে না পারার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিতে হবে উল্লেখ করেছেন।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ মানুষের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করা যাবে না। জনগণের রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে শেখ হাসিনা টিকে থাকতে পারেননি। বর্তমান সরকারও জনগণের রায় উপেক্ষা করলে টিকে থাকতে পারবে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিন চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও খুন-খারাবি বেড়েই চলছে। এমনকি মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়। কুমিল্লায় শিশু অপ্রিতম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এর জবাব দাবি করেন।

তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা বিধান করতে না পারার কারণে আজকের রংপুরের সমাবেশ থেকে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো টালবাহানা করা হলে রংপুর থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ