বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেছেন, ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং অপরাধ দমন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের প্রত্যাশাকে অবমূল্যায়ন করেছে।
তিনি আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ঢাকাস্থ সদস্যদের এক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুবুল হক ও মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী ; যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল; মাওলানা এনামুল হক মূসা ও মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী ; প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া; অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান; প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ; নির্বাহি সদস্য মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং আমীরে মজলিসের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদ খান প্রমুখ।
মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মন্তব্য বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থতার পরিচায়ক। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে তিনি হয়তো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন, বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত জনমনের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছেন না। প্রচলিত বিচারব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রে অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের মধ্যে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশা আসলে সমাজের বৃহত্তর অংশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন। জনগণের এই বাস্তব অনুভূতিকে উপেক্ষা করে কঠোর শাস্তির দাবিকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে আখ্যায়িত করা সমস্যার সমাধান নয়। বরং বিগত বছরগুলোর নিপীড়ন, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিজ্ঞতা মানুষকে ইসলামী ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে। যারা মদীনার সনদের আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলেন, তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ সম্প্রতি বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।
তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। বিচারকদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়াদি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলে অধস্তন আদালতের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারকার্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তির ঘটনায় আইনজীবী সমাজ, বিচার সংশ্লিষ্ট মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বিচার বিভাগের জন্য কার্যকর ও স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিচারক সংকট নিরসন, মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজলভ্য, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান।
মাওলানা ইউসুফ আশরাফ অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য শর্ত। পাশাপাশি ধর্ষণসহ সকল জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক
হাসান জুনাইদ
প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
