ঢাকা, ৫ জুন ২০২৫
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
নেতৃদ্বয় বলেন, ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক গৌরবময় নিদর্শন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ কিয়ামত পর্যন্ত ঈমানদারদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে। এই ঈদ আমাদের শিক্ষা দেয়—আল্লাহর আদেশের সামনে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে ত্যাগ স্বীকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা।
তাঁরা বলেন, আজ বিশ্ব মুসলিম চরম দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। গাজায় ইহুদিবাদী নিপীড়ন, কাশ্মীরে দখলদারিত্ব, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের অধিকার হরণ ও আরাকানে গণহত্যার মত বিভীষিকাময় দৃশ্য প্রতিদিনই উম্মাহকে কাঁদাচ্ছে। ঈদুল আজহার শিক্ষা হলো—এমন দুঃসময়ে উম্মাহর পক্ষে দাঁড়ানো, নির্যাতিতদের পাশে থাকা এবং আল্লাহর পথে আত্মত্যাগের প্রেরণা গ্রহণ করা।
নেতৃদ্বয় বলেন, দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার উত্তরাধিকার বর্তমান জাতি বহন করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দারিদ্র্য ও বঞ্চনার কঠিন বাস্তবতা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আল্লাহভীতির সমাজ গঠনের বিকল্প নেই। জাতীয় জীবনে ঈদুল আজহার শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ন্যায়, ইনসাফ ও তাকওয়াভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।
তাঁরা বলেন, ঈদের আনন্দ যেন শুধু সমাজের কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং সমাজের দরিদ্র, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান, প্রতিষ্ঠান ও নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষভাবে শাপলা গণহত্যা, জুলাই-আগস্ট বিপ্লব এবং বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে আহত-নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারগুলোর প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা জানানো—একটি জাতীয় ও ঈমানি দায়িত্ব।
পরিশেষে তাঁরা দেশবাসীর শান্তি, নিরাপত্তা ও ঈমানি জাগরণের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং কামনা করেন—আসন্ন ঈদুল আজহা যেন সমগ্র জাতির জন্য রহমত, কল্যাণ ও জাতীয় ঐক্যের বারতা হয়ে আসে।
দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ।।
২৪৭