৩
আজ, ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বলেছিলেন, “I Have a Plan” আজ দেশের মানুষ জানতে চায়, সেই পরিকল্পনা কী? ব্যর্থ মন্ত্রীদের নিয়ে দেশ চালানো, নাকি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের জন্য রাষ্ট্রকে উন্মুক্ত করে দেওয়াই সেই পরিকল্পনা?
তিনি বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলার কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে আছে বলে জনগণ আর বিশ্বাস করতে পারছে না। রাজধানীর বুকেই একের পর এক সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চলছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের লাগামহীন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, গত রাতে ঢাকার মিরপুরের ইসিবি চত্বরের চাদা না পেয়ে নিউ জিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওসহ আশপাশ এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, তাণ্ডব ও লুটপাট করা হয়েছে। রাজধানীর একটি ব্যস্ত এলাকায় এ ধরনের প্রকাশ্য সন্ত্রাসী তাণ্ডব আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, এর আগের রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও তাণ্ডব চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে— এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সরকার যদি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে যদি রাতের পর রাত এভাবে স্টুডিও ভাঙা যায়, হাসপাতাল তছনছ করা যায় এবং মানুষকে জিম্মি করা যায়, তাহলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কোথায়? এটি শুধু আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নয়, এটি সরকারের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি সভ্য দেশে এমন ব্যর্থতার পর কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ওই পদে বহাল থাকতে পারেন না। যারা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তাদের পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় নিয়ে সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, শুধু হাসিনা নেই— এই পরিবর্তন ছাড়া আর কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বিশেষ করে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং আগের চেয়েও ভয়াবহ রূপে ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা এবং জাতীয় ঐকমত্যকে ভেঙে দেওয়ার ফলেই অপরাধীরা নতুন সাহস পেয়েছে। সরকার যদি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর রাজনৈতিক দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে।
তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ মন্ত্রীদের অপসারণ, মিরপুরের উভয় হামলার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক
(হাসান জুনাইদ)
প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস