৫
আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের সম্পৃক্ততা এবং নিহত অপ্রতীমের আইফোন উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার কিংবা আলামত উদ্ধারের মধ্যে তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, পরিকল্পনাকারী, সহযোগী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরো অপরাধীচক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো প্রভাবশালী মহল বা অপরাধীচক্রকে রক্ষার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, দেশে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যখন পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন, তখন একের পর এক নৃশংস অপরাধের ঘটনা সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। মানুষের জানমাল রক্ষা করা সরকারের অনুগ্রহ নয়; এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর ও আত্মতুষ্টির বক্তব্য পরিহার করে বাস্তব পরিস্থিতির দিকে তাকাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো—এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণের নিরাপত্তাহীনতা দূর করা যাবে না। মাঠপর্যায়ে অপরাধীচক্র, কিশোর গ্যাং, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা, গাফিলতি কিংবা কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
তিনি বলেন, অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। তদন্তের নামে কালক্ষেপণ কিংবা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে—দেশের কোনো নাগরিক, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র উদাসীন নয়। অন্যথায় জননিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বক্তব্য জনগণের কাছে শুধু রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিহত অপ্রতীমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অপ্রতীম হত্যার দ্রুত বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক
(হাসান জুনাইদ)
প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস